হুয়াওয়ে বনাম ট্রাম্প প্রশাসনঃ আপনার যা কিছু জানা প্রয়োজন

আজকে সারাদিন ধরে ফেসবুকে কিংবা টেক ব্লগগুলোতে হয়তো হুয়াওয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার আর আমেরিকান কোম্পানিগুলোর মাঝে ত্রিমুখী দ্বন্দ নিয়ে বেশ কিছু লেখা পড়ে ফেলেছেন। আপনি যদি একজন টেকবাজ হইয়ে থাকেন তাহলে এসব ব্যাপার যে ঘটবে সেটা হয়তো আগেই অনুমান করেছিলেন। যাই হোক আমেরিকাতে হুয়াওয়ের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এখনো পর্যন্ত ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো আপনার কাছে স্পষ্ট করতেই এই আর্টিকেল।

ট্রাম্পের কালোতালিকাঃ গত সপ্তাহে ট্রাম্প নিজে স্বাক্ষর করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন এবং তাতে বলা হয় যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোম্পানি যেন আমেরিকা সরকারের লাইসেন্স বা অনুমতি ব্যতিত হুয়াওয়ে এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর কাছে কোন ধরনের প্রযুক্তি বা সেবা বিক্রি না করে। সহজ ভাষায় হুয়াওয়ের সাথে সব ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি না করতে নির্দেশ করে ট্রাম্প প্রশাসন। অবশ্য সিদ্ধান্তটি হুট করে নেয়া হয় নি। অনেক আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের রোষের মুখে ছিল কোম্পানিটি। তাদের দাবি হুয়াওয়ে তাদের প্রযুক্তির মাধ্যমে চীন সরকারের মদদে গুপ্তচরবৃত্তি করছে।

গুগলের নিষেধাজ্ঞাঃ ট্রাম্প এর ঘোষণার রেশ ধরে গতকাল গুগল তাদের সিদ্ধান্ত জানায়। গুগলের এক মুখপাত্র বলে, “আমরা আদেশ পালন করছি এবং করনীয়গুলো পর্যালোচনা করছি।“ অর্থাৎ গুগল তাদের এন্ড্রয়েড ও গুগল প্লে সার্ভিসের সব সেবা থেকে হুয়াওয়ে কে বঞ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। আর এর মাধ্যমেই মূলত খবরটি প্রচার পায়। কারণ এতে অনেক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীই সারসরি অনেক সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হবে। অবশ্য গুগলের এতে নিজেরও ক্ষতি। তবে নিজ দেশের বাইরে গিয়ে গুগলের আসলেই কিছু করার ছিল না।

গ্রাহকদের মধ্যে ধোঁয়াশাঃ গুগলের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে গ্রাহকদের মনে অনেক প্রশ্নের উদ্রেক করে। বিশেষ করে হুয়াওয়ে ব্যবহারকারীরা তাদের স্মার্টফোন নিয়ে বিচলিত ও চিন্তিত হয়ে পড়ে। গুগল সার্ভিস ছাড়া এন্ড্রয়েড ফোন হুয়াওয়ে তৈরী করতে পারবে। তবে সেক্ষেত্রে তাদেরকে এন্ড্রয়েডের ওপেন সোর্স প্রজেক্ট ব্যবহার করতে হবে। সেক্ষেত্রে গ্রাহকরা তাদের ফোনে গুগলের প্লে স্টোর ও অন্যান্য গুগল সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবে না। অনেকটা শাওমি বা হুয়াওয়ের চায়না রম এর মতো হবে ব্যাপারটা।

গুগলের অভয়দানঃ গুগলের প্রথম ঘোষণা খুব বেশি স্পষ্ট ছিল না। তবে পরে  তারা এক টুইট বার্তায় গ্রাহকদেরকে জানিয়েছে যে বিধ্যমান হুয়াওয়ে মোবাইল ব্যবহারকারীরা বরাবরের মতোই গুগলের সিকিউরিটি আপডেট এবং প্লে স্টোর ব্যবহার করতে পারবে। এতে গ্রাহকদের দুশ্চিন্তা কিছুটা লাঘব হয়।

হুয়াওয়ের বিবৃতিঃ এ পর্যন্ত চুপ থাকলেও অবশেষে হুয়াওয়ে তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রদান করে। বিবৃতিতে তারা বলে যে হুয়াওয়ের গ্রাহকদের হাতে থাকা সব ফোন, বাজারে থাকা ফোন এবং তাদের স্টকে থাকা সব ফোন বরাবরের মতো সিকিউরিটি আপডেট ও প্লে সার্ভিস ব্যবহার করতে পারবে। পাশাপাশি তারা তাদের পরবর্তী ফোনগুলোর জন্য একটি অপারেটিং সিস্টেম ডেভেলপ করার ব্যাপারেও ইঙ্গিত দিয়েছে। এর আগে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল যে হুয়াওয়ে গত ৬ বছর ধরে তাদের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ডেভেলপ করে আসছিলো। এবার হয়তো এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তাদের অপারেটিং সিস্টেম আলোর মুখ দেখবে।

চীন সরকারের বিবৃতিঃ আজকে এক প্রেস ব্রিফিং এ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লূ ক্যাং বলেছেন, “ চীন সবসময়ই চীনা কোম্পানির ন্যায্য অধিকারকে আইনত সমর্থন করে। এ ব্যাপারে অন্যান্য চীনা কোম্পানি কিংবা চীন সরকার কি ব্যবস্থা নিবে সেটা সময়ই বলে দিবে। সে পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং দেখতে থাকুন।“ চীন বরাবরই চাইনিজ কোম্পানির প্রতি আমেরিকার আচরণের নিন্দা করে আসছিলো। এবার এর জবাবে বেইজিং কি ব্যবস্থা নেয় সেটাই দেখার বিষয়।

ইন্টেল এবং কোয়ালকমেরও নাঃ গুগলের পর ইন্টেল ও কোয়ালকম ও হুয়াওয়ের সাথে ব্যবসা না করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। হুয়াওয়ে তাদের মোবাইলের কিছু কম্পোনেন্ট এবং ল্যাপটপের প্রসেসরের জন্য কোম্পানি দুটির উপর নির্ভরশীল। তবে মাইক্রোসফট এখনো এসব ব্যাপারে কিছু জানায় নি।

প্রজুক্তিবিদরা বলছেন হুয়াওয়ে ইস্যু নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে একটি শীতল স্নায়ুযুদ্ধ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। বিষয়টিকে নিয়ে হেলাফেলা করারও কিছু নেই। এখন পুরো ব্যাপারটি কতদূর গড়ায় সেটাই দেখার বিষয়।

[★★] আপনিও একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ! এখানে ক্লিক করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন।

ফেসবুকে যুক্ত হোন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য পেতে ইমেইলে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.