ম্যাক ওএস ক্যাটালিনা – যা কিছু নতুন

অ্যাপল তাদের ডেভেলপার কনফারেন্সে একদিনেই এত এত নতুন প্রোডাক্ট ও সার্ভিস এর ঘোষণা দিয়েছে যে কোনটা রেখে কোনটা নিয়ে লেখা যায় তা নিয়েই বিরাট কনফিউশনে পড়তে হয়। তাদের কিনোট স্পিচ এর অন্যতম আকর্ষণ ছিল ম্যাক ওএস এর নতুন ভার্সন যার নাম দিয়েছে তারা ক্যাটালিনা। নতুন ভার্সন কিছুদিনের মাঝেই গ্রাহকদের মাঝে রোল আউট শুরু হবে।

চলুন তার আগে নতুন এই ভার্সনের নতুন কিছু ফিচার দেখে আসি।

থাকছেনা আইটিউনস

না, এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আইটিউন্স না থাকলেও আইটিউন্স এর সব ফিচার নিয়ে তিনটি আলাদা অ্যাপ বানানো হয়েছে। এই তিনটি অ্যাপ এর নাম হলো, মিউজিক, পডক্যাস্টস আর অ্যাপল টিভি। আইটিউন্স অ্যাপল ডিভাইসগুলোর সবচেয়ে পরিচিত অ্যাপগুলোর একটি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এত এত ফিচার নিয়ে একটিমাত্র অ্যাপ দিয়ে অ্যাপল যেন সবকিছুকে জগাখিচুড়ি বানিয়ে ফেলছিল। তাই ক্যাটালিনাতে সবকিছুকে আলাদা করে দেয়া হয়েছে। অনেকে হয়তো ভাবছেন আইটিউন্স ছাড়া আপনার আইফোন বা আইপ্যাড কে সিঙ্ক কিভাবে করবেন! সমস্যা নেই। সিঙ্ক করার সব ফিচার এখন ম্যাক এর ফাইন্ডার অ্যাপ এই পাবেন।

স্ক্রিন টাইম মনিটর

এড্রয়েড কিংবা আইওএস এ এই ফিচারটি সম্পর্কে আপনি পরিচিত। এর মাধ্যমে সেটিংস থেকে বিভিন্ন অ্যাপ এ আপনি কতক্ষণ সময় দিয়েছেন তার একটা রিপোর্ট পেয়ে যাবেন। পাশাপাশি আপনি ডিস্ট্র্যাক্টিং অ্যাপ বা গেইম এর ক্ষেত্রে টাইমার সেট করে দিতে পারবেন যেন অযথা সময় অপচয় থেকে বিরত থাকতে পারেন। এটা নিঃসন্দেহে একটি কাজের ফিচার হতে যাচ্ছে।

নতুন “ফাইন্ড মাই” অ্যাপ

নতুন এই ফাইন্ড মাই নামক অ্যাপটি ফাইন্ড মাই ম্যাক ও ফাইন্ড মাই ফ্রেন্ডস ফিচারের একটি হাব হতে যাচ্ছে। নতুন এই ফাইন্ড মাই অ্যাপ এর মাধ্যমে আপনার ম্যাককে খুঁজে পাওয়া আরো সহজ করা হয়েছে। চমৎকার এর ফিচারটির মাধ্যমে আপনার ম্যাক যদি হারিয়ে যায় বা চুরি হয় তাহলে ও খুঁজে পেতে পারেন। ম্যাকটি বন্ধ করে ফেললেও সেটি একটি লো-এনার্জি ব্লুটুথ বেকন হিসেবে কাজ করবে যা কোন ইন্টারনেট ছাড়াই আশেপাশে থাকা অ্যাপল ডিভাইসের সাথে নিজের লোকেশন শেয়ার করবে। এভাবে অনেকগুলো ডিভাইস মিলে একটি মেশ নেটওয়ার্ক স্থাপনের মাধ্যমে সহজেই লোকেশন পৌঁছে দিতে পারবে।

ভয়েস কন্ট্রোল

স্মার্টফোনের মতো ম্যাকেও এখন থেকে ভয়েস দিয়ে কন্ট্রোল করা যাবে। এই ফিচারটি মাল্টিটাস্কিং এর ক্ষেত্রে কিংবা শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক হবে। এটা শুধু সিরি কিংবা গুগল এসিস্টেন্ট এর মতোই নয়। বরং ম্যাক এর প্রায় সব কাজ ই ভয়েসের মাধ্যমে করা যাবে।

আইপ্যাড সেকেন্ডারি ডিসপ্লে

এখন থেকে আপনি চাইলে আপনার ম্যাক এর সেকেন্ড ডিসপ্লে হিসেবে আপনার নিজের আইপ্যাডটিকেই ব্যবহার করতে পারবেন। এটি তারযুক্ত বা তারহীন উভয় পদ্ধতিতেই কাজ করে। অবশ্য থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করে এই ফিচার আগেই পাওয়া যেত। তবে এখন ন্যাটিভ ফিচার হওয়াতে এক্সপেরিয়েন্স আরো ভাল হওয়ার কথা।

এক্টিভেশন লক

এই ফিচারের মাধ্যমে আপনার ম্যাক চুরি হলে বা অনাকাঙ্ক্ষিত কারো হাতে পড়লে আইফোন বা অন্য কোন ডিভাইস দিয়ে এক্টিভেশন লক করতে পারবেন।  যার ফলে ম্যাকটি আবার ব্যবহার করতে হলে অ্যাপল আইডি দিয়ে আবার লগইন করে নেয়া লাগবে। এই ফিচার শুধুমাত্র টি২ সিক্যুরিটি চিপ সম্বলিত ম্যাকবুকে পাওয়া যাবে।

অটো লাইট এবং ডার্ক মোড

ম্যাক ওএস মোহাভে তে অ্যাপল প্রথমে ডার্ক মোড নিয়ে আসে। তবে নতুন এই ভার্সনে সেটিকে আরো একধাপ এগিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন থেকে আপনি চাইলে সেটিংস থেকে অটো মোড সিলেক্ট করে দিতে পারেন যেন দিনের সময় অনুযায়ী থিম লাইট কিংবা ডার্ক মোডে পরিবর্তিত হয়।

৩২ বিট কে বিদায়

ম্যাক ওএস ক্যাটালিনা তে কোন ৩২ বিট অ্যাপ এর ব্যবহার থাকছে না। আপনার যদি কোন ব্যাকডেটেড ৩২ বিট অ্যাপ থেকে থাকে তাহলে সেটি ৬৪ বিটে আপডেট না করলে নতুন ম্যাক ভার্সন ইন্সটলের পর সেটি কাজ করা বন্ধ করে দিবে। এর মাধ্যমেই ৩২ বিট যুগের অবসান হচ্ছে।

[★★] আপনিও একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ! এখানে ক্লিক করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন।

ফেসবুকে যুক্ত হোন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য পেতে ইমেইলে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.