ইবে-তে বিক্রি হচ্ছে নকিয়ার কাতায়া নামক এই স্মার্টফোন প্রোটোটাইপটি


বিভিন্ন কোম্পানি তাদের কোন নতুন ফোন বাজারে ছাড়ার আগে সেটার এক বা একাধিক পরীক্ষামূলক নমুনা বা প্রোটোটাইপ তৈরী করে থাকে। আবার অনেকসময় এমনও হয় যে প্রোটোটাইপ ডেভেলপ করার পর কোন কারণে প্রজেক্ট বাতিলও করে দেয়া হয়।

সাধারণত কোম্পানির কর্মীদের ব্যবহার করার জন্য হাতে গোনা কিছু প্রোটোটাইপ ইউনিট তৈরী করা হয়। এগুলো সাধারণ গ্রাহকদের জনসম্মুখে সাধারণত আনা হয় না। পরীক্ষণ শেষে সাধারণত এগুলো কর্মীরা ব্যক্তিগত সংগ্রহে রেখে দেন।

এমনই এক প্রোটোটাইপ বিক্রির বিজ্ঞাপন কিছুদিন ধরে পুরাতন জিনিস কেনাবেচার সাইট ইবে তে ঘুরছে। এটি হলো নকিয়ার তৈরী কাতায়া নামক একটি ফোন। এরকম বিভিন্ন কোম্পানির প্রোটোটাইপ কর্মীরা অনেকসময় বেশি দাম হাঁকিয়ে বেচে দেয়ার জন্য বিজ্ঞাপন দেন। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

তবে এটা নিয়ে এত আলোচনার কারণ হলো এই ফোনটি এন্ড্রয়েড, উইন্ডোজ, সিম্বিয়ান, মিগো কিংবা সেইলফিশ নামক নকিয়ার ব্যবহৃত কোন অপারেটিং সিস্টেমে নয়, বরং একটি অজানা অপারেটিং সিস্টেমে চলছে।

অবশ্য এর আগেও নকিয়ার বেশ কিছু ফোন এর প্রোটোটাইপ ইন্টারনেটে ছড়ায় যেগুলোর কোন বাণিজ্যিক ভার্সন আসার আগেই প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে যায়। এটাও তেমনই একটি ফোন যেটি কখনো মুক্তির স্বাদ পায় নি।

স্মার্টফোনটির বিজ্ঞাপনের ছবিতে দেখা যায় এটির ডিজাইন পুরোনো নকিয়া টাচ ফোনগুলোর মতো। অনেকটা প্রাথমিককালের লুমিয়া ফোনের মতো। এর বক্সে ও পিছনের দিকে “কাতায়া” লেখা আছে। হয়তো এটা ফোনটির কোডনেম ছিল। তাছাড়া “ডিজাইনড ইন অওলু” লেখা আছে। অওলূ হচ্ছে ফিনল্যান্ডের একটি শহর যেখানে নকিয়ার অফিস ও গবেষণাগার রয়েছে।

ঐ বেনামী ব্যক্তির দেয়া বিজ্ঞাপনে এই লেখাগুলো ছিল-

Extremely rare device, Nokia Kataya Prototype, running an UNKNOWN OS.

On startup , a Nokia Logo + “Tampere Powered” is Displayed.

TYPE : RM-842

Proto Build B1.2

Proto box includes a nfc tag, to activate voice interaction. Also, on the box , is written “Built on Krakatau”.

Very interesting device, OS isn’t similiar to any Nokia ever made. new icon styles, animations, etc.

I connected it to wi-fi , browser shows as a Safari 4 WebKit.

 

ফোনটির ইউজার ইন্টারফেস একটু ব্যতিক্রম। অনেকটা প্রাথমিক দিকের এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এর মতো। যতদূর ধারনা করা যাচ্ছে এটা হয়তো ২০০৮-২০০৯ এর দিকে ডেভেলপ করা হয়েছিলো। পরে মাইক্রোসফট এর সাথে চুক্তি করে উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের সিদ্ধান্তে হয়তো এই প্রজেক্ট আর আলোর মুখ দেখে নি।

হয়তো এটা এন্ড্রয়েড ও আইওএস এর সাথে পাল্লা দেয়ার জন্য অস্ত্র হিসেবে ডেভেলপ করা হচ্ছিলো। ইতিমধ্যে ফোনটি ইন্টারনেট জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে নকিয়া ফ্যানদের মাঝে।

সাধারণত সৌখিন মোবাইল ফোন সংগ্রাহকদেরকে এই ধরনের বিরল প্রোটোটাইপগুলো সংগ্রহ করতে দেখা যায়। ইবে-র ঐ বিজ্ঞাপনে এর দাম হাঁকানো হয়েছে ১৪৯৯ মার্কিন ডলার। ইবে তে এরকম বিভিন্ন কোম্পানির অসংখ্য প্রোটটাইপ আপনি খুঁজলে পাবেন।

[★★] আপনিও একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ! এখানে ক্লিক করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন।

ফেসবুকে যুক্ত হোন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য পেতে ইমেইলে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.