শাওমির বিরুদ্ধে তথ্য পাচারের অভিযোগ কতোটা সত্য?


শাওমির বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের তথ্য পাচার করার অভিযোগ উঠেছে। এবার চীনা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ম্যাগাজিন প্রকাশনা সংস্থা ফোর্বস।

কিন্তু আসলেই শাওমি তথ্য পাচার করছে? ফোর্বসের করা অভিযোগ কতটাই বা সত্য?

একটি নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শাওমি হ্যান্ডসেটের ব্যক্তিগত তথ্যগুলো ব্যহারকারীর অগোচরে হাতিয়ে নিয়েছে। শাওমির বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিং তথ্য ও হ্যান্ডসেটে যেসব ফাইল ওপেন করা হয়েছে সেসব তথ্য সংগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে। আর এই তথ্য পাচার হচ্ছিল চীনের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠান আলিবাবার রিমোট সার্ভারের মাধ্যমে।

অন্যান্য প্রিলোডেড অ্যাপগুলির সঙ্গে শাওমির রেডমি এবং এমআই সিরিজের ফোনের ডিফল্ট ব্রাউজারের মাধ্যমে এই ডেটাগুলি ট্রান্সফার করা হচ্ছিল বলে দাবি করেছে ফোর্বস। এমনকি যদি আপনি ইনকগনিটো মোডে রেখেও ইন্টারনেট সার্চ করেন তাহলেও আপনার ডেটা ট্রান্সফার হয়ে যাচ্ছিল। তবে এই ডেটা পৌঁছচ্ছে শুধুমাত্র তাদের সার্ভারে, কোন তৃতীয় সার্ভারে এই ডেটা ট্রান্সফার করা হয়নি।

সিকিউরিটি রিসার্চাররা শাওমির বিভিন্ন ফোনে এই সমস্যা খুঁজে পেয়েছেন, যার মাধ্যমে শাওমি তাদের ব্যবহারকারীর অনুমতি না নিয়েই তাদের ব্যক্তিগত তথ্য চীনে পাচার করছিল। রিসার্চাররা আবিষ্কার করেছেন যে, শাওমির অত্যন্ত জনপ্রিয় স্মার্টফোন রেডমি নোট ৮-এ এই সমস্যা সবথেকে বেশি রয়েছে। ব্রাউজারে কোন তথ্য সার্চ করার সঙ্গে সঙ্গেই সেই ডেটা রিমোট সার্ভারের মাধ্যমে আলিবাবার সার্ভারে পৌঁছে যাচ্ছিল।

রিসার্চাররা জানিয়েছেন শুধুমাত্র তার পরিচয় নয়, তার ব্যক্তিগত জীবনের বেশ কিছু তথ্যও ওই সার্ভারে পৌঁছে গিয়েছে। তারা জানিয়েছেন যে, সম্ভবত শাওমি ইচ্ছাকৃতভাবে এই সফ্টওয়্যারগুলিকে রেডমি স্মার্টফোনে যোগ করেছে। রিসার্চাররা আরও জানিয়েছেন যে, রেডমি নোট ৮ স্মার্টফোনটি ব্যবহার করার সময়, ফোনটি শুধুমাত্র ব্রাউজিং হিস্ট্রি নয় আরো বেশ কিছু তথ্য রেকর্ড করছিল।

এই প্রেক্ষাপটে শাওমির গোপনীয়তা নীতিমালার বিষয়ে ফোর্বসের সাম্প্রতিক নিবন্ধটি পর্যালোচনা করে এক ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, শাওমি বিশ্বাস করে যে ফোর্বসের রিপোর্টিংটি কিছু তথ্যের ভুল উপস্থাপনা করেছে। শাওমি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা বিষয়ক নীতিমালাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। শাওমি যে দেশ ও অঞ্চলগুলিতে ব্যবসা পরিচালনা করে সেগুলিতে কঠোরভাবে এই নীতিমালা অনুসরণ করছে এবং ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সেই দেশের বা অঞ্চলের সুরক্ষা আইন এবং নিয়মগুলির সাথে সম্পূর্ণরূপে মেনে চলছে।

এর আলোকে শাওমি কিছু ব্যাখাও দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী বাজারে শাওমি আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বোত্তম সম্ভাব্য ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য, অপারেটিং সিস্টেম এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনগুলির মধ্যে সামঞ্জস্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার বাধ্যবাধকতা গ্রহণের জন্য, সমস্ত সংগৃহীত ডেটা ব্যবহারের ভিত্তিতে অনুমতি এবং সম্মতি তাদের ব্যবহারকারীদের দ্বারা স্পষ্টভাবে গ্রহণ করছে।

শাওমি কতৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, পুরো প্রক্রিয়াটি বেনামে এনক্রিপ্ট করা হয়েছে। সমন্বিত ব্যবহারের এই ডেটা সংগ্রহ শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং শাওমি এই ডেটার কোনওটির সাথে ব্যক্তিগতভাবে সনাক্তযোগ্য কোনও তথ্যকে লিঙ্ক করে না। এটি ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা এবং ডেটা সুরক্ষা যেমন নিশ্চিত করে তেমনি সামগ্রিক ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করে। এটি বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট সংস্থাগুলি দ্বারা গৃহীত একটি সাধারণ সমাধান।

শাওমি এমন একটি পাবলিক ক্লাউড অবকাঠামোতে তথ্য হোস্ট করে যা এই ইন্ডাস্ট্রিতে সুপরিচিত। শাওমির বিদেশী পরিসেবা এবং ব্যবহারকারীদের সমস্ত তথ্য বিদেশের বিভিন্ন সার্ভারগুলিতে জমা থাকে এবং সেখানকার স্থানীয় ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন এবং বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়।
শাওমি এই ব্লগ পোস্টের লিঙ্কটিতে কারিগরি ব্যাখাসহ অবস্থান বিশদভাবে তুলে ধরেছে।

[★★] আপনিও একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ! এখানে ক্লিক করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন।

ফেসবুকে যুক্ত হোন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য পেতে ইমেইলে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.