ভিডিও কনফারেন্সিং এর সেরা ৭টি অ্যাপ

ইন্টারনেট ব্যবস্থার উন্নতির বদৌলতে গ্রুপ কল কিংবা কনফারেন্স এর জনপ্রিয়তা দিনদিন বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে চলমান করোনা ভাইরাস মহামারীর সংক্রমণের কারণে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং ভিডিও কনফারেন্স এ সারাই অপরিহার্য একটি বিষয় হয়ে উঠেছে। 

মূলত গ্রুপ ভিডিও কলিং ফিচারটি আমাদের কাছে কনফারেন্স নামে পরিচিত। এই পোস্টে আমরা এমন কিছু এপ নিয়ে জানবো যেগুলো ভিডিও কলিং এর সাথে অন্যান্য ফিচার যুক্ত করে অনলাইন মিটিং কিংবা আলোচনাকে আরো সহজ করে তুলবে।

জুম মিটিংস – Zoom Meetings

জুম মিটিংস একটি ফিচার-প্যাকড ভিডিও কনফারেন্সিং এপ, যা এন্টারপ্রাইজ লেভেলের ব্যবহারকারীদের পর্যন্ত সন্তুষ্ট করতে সক্ষম। যেকেউ চাইলে জুম মিটিংস এ একটি ফ্রি একাউন্ট খুলে ভিডিও কনফারেন্স হোস্ট করতে পারে। জুম মিটিংস এপ এর ফ্রি ভার্সনে সর্বোচ্চ ১০০ জন একটি ভিডিও কনফারেন্সে জয়েন করতে পারবেন। তবে সময় ৪০ মিনিটের মধ্যেই সীমিত। ফ্রি একাউন্ট ব্যবহারকারীরা ভিডিও কিংবা অডিও রেকর্ড করার সুবিধার পাশাপাশি তাদের স্ক্রিন অন্যান্য পার্টিসিপেন্টদের সাথে শেয়ার করার সুবিধাও পাবেন। 

তবে পেইড প্ল্যানে আপগ্রেড করার মাধ্যমে সময়ের এই লিমিটেশনকে বিদায় বলা সম্ভব। মজার ব্যাপার হল, জুম মিটিংস এর ফ্রি ভার্সনে মিটিংস হোস্ট করার এর সংখ্যা সীমিত নয়। অর্থাৎ একবার ৪০ মিনিটের সময়সীমা অতিক্রম করার পর আপনি চাইলে নতুন মিটিং হোস্ট করতে পারবেন। 

জুম মিটিংস এর আরেকটি সুবিধা হল এটি এপস এর পাশাপাশি ওয়েব ব্রাউজার, সফটওয়্যার কিংবা ব্রাউজার এক্সটেনশন হিসেবেও কাজ করে। 

গুগল হ্যাংআউটস – Google Hangouts

জিমেইল একাউন্ট আছে, এমন যেকেউ খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারবে গুগল হ্যাংআউটস এ্যাপটি। ফ্রি জিমেইল এবং বেসিক গুগল সুট গ্রাহকগণ সর্বোচ্চ ১০ জন একইসাথে ভিডিও কলে কথা বলতে পারবে এই এপ ব্যবহার করে।

(এছাড়া ফ্রি গুগল মিট ব্যবহার করতে পারেন।)

ভয়েস চ্যাট সুবিধার পাশাপাশি ইমেইল কিংবা লিংকের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা গুগল হ্যাংআউটস কলে জয়েন করতে পারবেন। গুগলের জি সুট ব্যবহারীগণ ডোমেইন এর মাধ্যমে অনধিক ১ লক্ষ ভিউয়ার সাপোর্টেড ভিডিও স্টিম করতে পারবেন। এছাড়াও থাকছে মিটিংগুলো ডিরেক্ট গুগল ড্রাইভে রেকর্ড এবং সেভ করার সুবিধা। 

এন্ড্রয়েড এবং আইওএস এ এপ এর পাশাপাসি ওয়েব ব্রাউজারেও ব্যবহার করা যাবে গুগল হ্যাংআউটস। 

স্কাইপ – Skype

স্কাইপ এর নাম শুনেনি, এমন মানুষ হয়ত খুজে পাওয়া যাবেনা। অনলাইন কলিং ব্যবস্থায় অনেকদিন ধরেই অ্যাপটি জনপ্রিয়তার শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে। বর্তমানে অনধিক ৫০ জন (হোস্ট সহ) ভিডিও কলে ফ্রিতে কথা বলার সুযোগ রয়েছে স্কাইপে। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে পূর্ববর্তী ২৫ জনের সীমা ৫০ এ পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠানটি। 

কল রেকর্ডিং এবং তা ৩০ দিন পর্যন্ত সংরক্ষণের সুবিধাও থাকছে স্কাইপে। কম্পিউটারে ওয়েব ব্রাউজার এবং স্মার্টফোনে অ্যাপ এর মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে স্কাইপ। 

স্ল্যাক – Slack

যেসব প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে যোগাযোগের জন্য স্ল্যাক ব্যবহার করে, তাদের জন্য ভিডিও কনফারেন্সিং এর ক্ষেত্রে এটি একটি আদর্শ সমাধান হতে পারে। স্ল্যাক এ ভিডিও কনফারেন্সিং ফিচারটি অনেকটা এড-অন এর মত কাজ করে। যদিওবা ওয়ান-অন-ওয়ান ভিডিও কলিং সুবিধা স্ল্যাক এ বিনামূল্যে পাওয়া যায়, তবে বৃহৎ আকারে মিটিং এর ক্ষেত্রে এন্টারপ্রাইজ লেভেলের প্রাইসিং এর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। 

সিসকো ওয়েবেক্স – CISCO Webex

সিসকো এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা সাধারণত মূল্যবান এন্টারপ্রাইজ পণ্যগুলির সাথে সম্পর্কিত। অর্থাৎ এটি বিনামূল্যে ব্যবহারকারীদের নাগালের বাইরে। ওয়েবেক্স হল প্রতিষ্ঠানটির ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবস্থার একটি সল্যুশন যা একই ধরনের যেকোনো পণ্যের বিকল্প হতে পারে। 

একটি কলে সর্বোচ্চ ১০০ জন অংশ নিতে পারেন সিসকো ওয়েবেক্স এ। কল সংখ্যার কোনো সীমা থাকছেনা, যা একটি ভালো ব্যাপার। এছাড়াও আপনি ফ্রি একাউন্টে ১জিবি ক্লাউড স্টোরেজ পাবেন। স্ক্রিন শেয়ার, ফাইন শেয়ার এবং ভিডিও রেকর্ডিং এর মত সবিধাও থাকছে এতে। 

ওয়েবসাইট, ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন কিংবা মোবাইল অ্যাপ এর মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে সিসকো ওয়েবেক্স। 

জিতসি – Jitsi

জিতসি একটি শতভাগ ফ্রি এবং ফিচারসমৃদ্ধ ওপেন সোর্স প্রজেক্ট। এতে থাকছে ভিডিও কনফারেন্সিং এর জন্য প্রদত্ত সার্ভার। তবে ব্যবহারকারিরা চাইলেই নিজের সার্ভারে ভিডিও কনফারেন্স হোস্ট করার সুবিধাও থাকছে। 

একই সময়ের ১০০ জনের অধিক পার্টিসিপেন্টকে কনফারেন্সে যুক্ত করার লক্ষ্য থাকলেও বর্তমানে সর্বোচ্চ ৭৫ জন একটি কনফারেন্সে একই সময়ে জয়েন করতে পারেন। স্ক্রিন শেয়ারিং সুবিধার পাশাপাশি জিতসি এর রয়েছে এন্ড্রয়েড এবং আইওএস অ্যাপ। আরো থাকছে কনফারেন্স সেভ, ইউটিউবে স্ট্রিম কিংবা ডাউনলোড করার সুবিধা। 

মাইক্রোসফট টিমস – Microsoft Teams

মাইক্রোসফট টিম ব্যবহার করে একই সাথে ১০,০০০ জন পর্যন্ত একই কলে জয়েন করতে পারেন। মিটিংগুলি রেকর্ড করা যায় এবং পরে শেয়ার কিংবা রেফারেন্সের জন্য ওয়ানড্রাইভ এ সংরক্ষণ করা যায়। গোপনীয়তা রক্ষার জন্য মিটিংগুলোতে এনক্রিপ্ট প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। তবে মাইক্রোসফট টিম এর সম্পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে হলে মাইক্রোসফট ৩৬৫ প্যাকেজ এর সাবস্ক্রিপশন থাকা আবশ্যক। 

 

উপরোক্ত ভিডিও কনফারেন্স অ্যাপগুলোর মধ্যে কোনটি আপনার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে? কমেন্ট করে জানান। 

[★★] আপনিও একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ! এখানে ক্লিক করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন।

ফেসবুকে যুক্ত হোন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য পেতে ইমেইলে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.