কোভিড-১৯ মহামারিতে সুরক্ষার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে যেসব ডিভাইস

দেশে কোভিড-১৯ আক্রান্তের পরিমাণ বাড়ছেই, সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো আবারও খুলতে শুরু করেছে। প্রায় সব অফিসেই প্রবেশের আগে শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা বাধ্যতামূলক হয়ে গেছে, এমনকি প্রত্যেকের সবসময় মাস্ক পরার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। একদিকে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা, অন্যদিকে নতুন করে এই নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন খুব বড় একটা চ্যালেঞ্জ।

সুরক্ষার পাশাপাশি নিরাপত্তা র বিবেচনায় স্পর্শহীন সিকিউরিটি ডিভাইস গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। আর এই প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেডকেটেকো সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তার বিবেচনায় নানা ধরনের সমাধান নিয়ে হাজির হয়েছে।

অ্যাক্সেস কন্ট্রোল

স্পিডফেস-ভি৫এল : স্পিডফেস-ভি৫এল সিরিজটি পুরোপুরি আপগ্রেডেড দৃশ্যমান ফেসিয়াল রিকগনিশেন টার্মিনাল। এতে ব্যবহার করা হয়েছে ইন্টেলিজেন্স ইঞ্জিনিয়ারিং, সঙ্গে স্টেট-টু-স্টেট আর্ট ফেসিয়াল রিকগনিশন অ্যালগরিদম এবং কম্পিউটার ভিশন প্রযুক্তি। এটি একই সঙ্গে খুব দ্রুত এবং অনেক পরিমাণে ফেস এবং হাতের তালু যাচাই করতে পারে। সেটা যেকোনো ধরনের প্রতিষ্ঠানেরই হতে পারে।

স্পর্শহীন প্রযুক্তির এই সিরিজটিতে নতুন অনেক ফাংশন যুক্ত করা হয়েছে। যেমন-তাপমাত্রা পরিমাপ করা এবং মাস্ক পরে থাকলেও চিনতে পারার প্রযুক্তি। একই সঙ্গে ডিভাইসটি কার্যকরভাবে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত যে কোনো উদ্বেগ দূর করতে সহায়তা করবে।

অ্যান্টি স্পুফিং অ্যালগরিদম থাকায় কেউ সহজেই ভুয়া ছবি, ভিডিও কিংবা মাস্ক ব্যবহার করে পেরোতে পারবে না। এতে রয়েছে একের ভিতর তিন পাম রিকগনিশন (পাম শেপ, পাম প্রিন্ট এবং পাম বেইন)। আর প্রতিটি ফিঙ্গার চিহ্নিত করতে মাত্র ০.৩৫ সেকেন্ড সময় নেয়। ডিভাইসটি এই সিস্টেমে প্রতিদিন ৩০০০ জনের ডেটা সংরক্ষণ করতে পারে।

প্রোফেস এক্স : প্রোফেস প্রোডাক্ট লাইনে সবচেয়ে আপগ্রেডেড সংস্করণ প্রোফেস এক্স, যা সব ধরনের ডিলের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। জেডকেটেকোর কাস্টমাইজ সিপিইউ দিয়ে চালিত বুদ্ধিবৃত্তিক ইঞ্জিনিয়ারিং ফেসিয়াল রিকগনিশন অ্যালগরিদম এবং সর্বাধুনিক কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে ডিভাইসটিতে।

প্রোফেস এক্স সিরিজটি ফেসিয়াল ও ফিঙ্গার উভয় ভেরিফিকেশন করতে পারে। একই সঙ্গে এটি বড় আকারের কাজ খুব দ্রুত ও সবদিক থেকেই নির্ভুলভাবে করতে পারে।

এই ফেসিয়াল রিকগনিশনের সক্ষমতা সিরিজটিকে বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি শিল্পে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। দিনে ৫০ হাজার পর্যন্ত ফেসিয়াল টেমপ্লেট শনাক্ত করতে পারবে ডিভাইসটি। যার প্রতিটি ফেস রিড করতে মাত্র ০.৩ সেকেন্ড সময় প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে এটি সব ধরনের নকল ছবি, ভিডিও শনাক্ত করতে পারে। এছাড়াও এটি একের ভিতর তিন হিসেবে প্রতিটি ফিঙ্গার মাত্র ০.৩ সেকেন্ড সময়ে রিড ও সংরক্ষণ করতে পারে।

সিকিউরিটি ইন্সপেকশন  

জেডকে-ডি৩১৮০এস : ভৌগোলিক হিসেবে দেখলেও দেখা যাচ্ছে দিন দিন বিশ্বব্যাপী বেড়ে চলেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। এর ফলে ব্যক্তিগত সুরক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই রোগটির একটি লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। জেডকে-ডি৩১৮০এস এমন একটি মেটাল ডিটেক্টর যার মধ্যে দিয়ে হেঁটে গেলে শারীরের তাপমাত্রা জানিয়ে দেবে।

যদি সেই তাপমাত্রা ৩৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরর বেশি হয় (কিংবা এমন কোনো কিছু সেট করে দেওয়া হয়) তাহলে ডিভাইসটি অ্যালার্ম দিয়ে জানিয়ে দেবে।

জেডকে-১৭৮কে : এই ডিভাইসটি একটি ইনফ্রারেড থার্মাল ইমেজার যা দৃশ্যমান হালকা ক্যামেরা দিয়ে সাজানো। যা কোনো কিছুর উপরের তাপমাত্রা পরিমাপ এবং রিয়েল-টাইম থার্মাল চিত্র শনাক্ত করতে পারে।
এটি বৃহৎ পরিসরে শনাক্তকরণে ফটোগ্রাফির বিভিন্ন ফিচার রয়েছে। যা বিভিন্ন পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম। উদাহরণস্বরূপ, ডিভাইসটিতে থাকা বিল্টইন উচ্চ উজ্জ্বলতার লাইট অন্ধকারে সহজেই অবজেক্ট খুঁজে পাবে।

এনট্র্যান্স কন্ট্রোল
এসবিটিএল৮০০০ : এই সিরিজটি একক প্রবেশ দ্বারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। যেখানে লোক সমাগম বেশি হতে পারে এমন প্রবেশ দ্বারের জন্য উপযোগী এটি। এমনকি অনেক প্রবেশদ্বার রয়েছে এমন সিস্টেমের জন্যও জেডকেটেকো এসবিটিএল৮০০০ আরও মডিফিকেশ এবং ফ্লেক্সিবিটি দেবে।

ফেস কিওস্ক

ফেসকিওস্ক-এই১৩এ : জেডকেটেকোর মাল্টিপারপাস ফেসিয়াল রিকগনিশেন কাজের জন্য আছে অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমের ১৩.৩ ইঞ্চির টাচ স্ক্রিনের এই ডিভাইসটি। ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে এতে যুক্ত করা হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, মিফায়ার মডিউল।

ফেসিরিজের ভিত্তিতে বিল্ট-ইন মাইফের কার্ড রিডার এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরসহ অনেকগুলি ঐচ্ছিক মডিউল ফাংশন রয়েছে। যা কেবল ফেসিয়াল শনাক্তকরণের মাধ্যমে শুধু ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই-ই নয়, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং স্মার্ট কার্ড এমনকি হাইব্রিড ভেরিফিকেশনও করতে পারে।

ফেসকিওস্ক-এইচ১৩সি : জেডকেটেকোর মাল্টিপারপাস ফেসিয়াল রিকগনিশেন কাজের জন্য রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড সিস্টেমের ১৩.৩ ইঞ্চির টাচ স্ক্রিন স্মার্ট কিওস্ক ডিভাইস যা ফেস কিওস্ক-এই১৩সি। ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এতে যুক্ত করা হয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, মিফায়ার মডিউল। এতে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, যা কেবল ফেসিয়াল সনাক্তকরণের মাধ্যমে শুধু ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই-ই নয়, ফিঙ্গারপ্রিন্ট এবং স্মার্ট কার্ড এমনকি হাইব্রিড ভেরিফিকেশনও করতে পারে।

থার্মাল ক্যামেরা  

জেডএন-টি১ : এই ডিভাইসটিতে বোর্ডের তাপমাত্রা শনাক্তকরণ অ্যালগরিদম রয়েছে। আছে দুটি লেন্স। অন্যান্য ফিচারের সঙ্গে এটি ১৬টি টার্গেট সাবজেক্ট এবং ১৪ ধরনের রঙের প্যালেট শনাক্ত করতে পারে।
জেডএন-টি৯৫ : এই প্রযুক্তির ডিভাইসটিতেও আছে অন বোর্ড তাপমাত্রা শনাক্তকরণ অ্যালগরিদম, দুটি লেন্স, থার্মাল সেন্সিটিভিটি এবং অন্যান্য ফিচারের সঙ্গে তিন ধরনের রঙের প্যালেট শনাক্তকরণ প্রযুক্তি।

[★★] আপনিও একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ! এখানে ক্লিক করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন।

ফেসবুকে যুক্ত হোন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য পেতে ইমেইলে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.