রিয়েলমি হঠাৎ করে এত জনপ্রিয় হয়ে ওঠার রহস্য কী?

ভারতের বাজারে স্যামসাং এর মত শক্তিশালী কোম্পানিকে যখন পেছনে ফেলে বিজয়ের স্বাদ অবলোকনে ব্যাস্ত শাওমি, ঠিক তখনই তাদের সেই স্বস্তিকে ক্ষণস্থায়ী করতে তাদের ঘাড়েই নিঃশ্বাস ফেলছে অন্য একটি স্মার্টফোন কোম্পানি। কথা বলছি, রিয়েলমি কে নিয়ে।

অপো’র সাব-ব্রান্ড হিসেবে বছর দুয়েক আগে উথ্থান হলেও, বর্তমান স্মার্টফোন বাজারে রিয়েলমি’র অবস্থান রীতিমত শক্তের কাথারে। কীভাবে দুই বছরের মধ্যেই এতো জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্রান্ডে পরিণত হল রিয়েলমি, তাই নিয়ে কথা বলবো এই পোস্টে।

কাউন্টারপয়েন্ট এর একটি জরিপে দেখা গিয়েছে যে, শুধুমাত্র ২০১৯ সালের তৃতীয় কোয়ার্টারে ১কোটি স্মার্টফোন বিক্রি করেছে রিয়েলমি। বাজারে আসাদ অল্প সময়ের মধ্যে এই বিশাল সংখ্যক স্মার্টফোন বিক্রি যে কাউকে নিঃসন্দেহে অবাক করে দেওয়ার মত। চীন এবং এশিয়ার কিছু অংশে নির্দিষ্টভাবে রিয়েলমি যাত্রা শুরু করলেও অল্প সময়ের মধ্যে রাশিয়া, ভারত এবং ইউরোপের মত বাজারগুলোতে পৌছে যায় রিয়েলমি।

বিশ্বের প্রায় সকল স্মার্টফোন ব্রান্ডের উপস্থিতি কমবেশি সকল দেশেই চোখে পড়ে। তবে এই ব্যাপারটিকে অনেকটাই গুরুত্বের সহকারে দেখে রিয়েলমি। থার্ড পার্টি সেলার এর মাধ্যমে তাদের স্মার্টফোন গ্রাহকের নিকট পৌছাতে নারাজ রিয়েলমি। তাইতো ভারতের বাজারে হাইপ তুলতে না তুলতেই বাংলাদেশের বাজারে অফিসিয়ালি নিজেদের পা রেখেছে রিয়েলমি। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারের জন্য দেশেই তৈরী হচ্ছে রিয়েলমি’র স্মার্টফোন। এভাবে প্রতিটি দেশের বাজারে স্মার্টফোন ব্রান্ডগুলো ঢুকে গেলে দাম কমবে স্মার্টফোনের।

একই মূল্যে প্রতিযোগীদের চেয়ে ভালো মানের স্মার্টফোন গ্রাহকদের কাছে পৌছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভালোভাবেই মেটাতে পেরেছে রিয়েলমি। এছাড়াও আরেকটি কারণে রিয়েলমি বাজার দখলে খুব ভালোভাবেই সক্ষম হয়েছে। সেটি হল, বিভিন্ন দেশের জন্য আলাদা ধরনের ফোন বানানো। অর্থাৎ যে দেশে যে ধরনের স্মার্টফোন ফিচারগুলো গ্রাহক বেশি চায়, সেগুলোই প্রদান করতে বদ্ধ পরিকর।

রিয়েলমি এর গ্রাহকবান্ধব পরিবেশের একটি অনন্য উদারহরণ হল বাংলাদেশের বাজারে মুক্তি পাওয়া রিয়েলমি সি২ ডিভাইসটি। আমাদের দেশের বাজারের চাহিদা মাথায় রেখে ভারতের বাজার থেকে কিছুটা পরিবর্তনযুক্ত রিয়েলমি সি২ দেশে আনে রিয়েলমি। ইতিমধ্যেই তাদের এই কাজের জন্য দেশের স্মার্টফোন বাজারে তুমুলচাবে সারা ফেলেছে রিয়েলমি। অর্থাৎ রিয়েলমি রীতিমত গ্রাহকের ব্রান্ডে পরিণত হয়েছে। এটি তাদের সফলতার পেছনে অন্যতম কারণ বলা চলে।
গতবছর তাদের ফ্ল্যাগশিপ কিলার স্মার্টফোন, রিয়েলমি এক্স২ প্রো বাজারে এনে বিপুল সারা ফেলে দেয় রিয়েলমি।

নামিদামি সব কোম্পানির ফ্ল্যাগশিপ ফোনের প্রায় অর্ধেকেরও কম দামে ফ্ল্যাগশিপ ফিচারড এই ফোন নাস্তানাবুদ করে দেয় সকল স্মার্টফোন ব্রান্ডকে। এছাড়াও স্মার্টফোন ক্রয়ের পেছনে গ্রাহকদের খরচকে রীতিমত প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলে ফোনটি। বর্তমান বাজারে আপনি যে ধরনের ফোনই খুজুন না কেনো, রিয়েলমি এর কোনো না কোনো ফোন আপনার সে তালিকায় রাখতেই হবে। অবাক করা দামে অসাধারণ সব ফিচার দিয়ে অল্প সময়েও গ্রাহকের মন জয় করে ফেলেছে স্মার্টফোন ব্রান্ডটি।

তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলোর এই প্রতিযোগিতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছে গ্রাহকগণ। নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ব্রান্ডগুলো দামের অংকটা কমিয়ে দিয়ে গ্রাহকের মনজয়ে ব্যাস্ত।

এতদিন প্রতিযোগিতামূলক স্মার্টফোন বাজারে অন্যান্য স্মার্টফোন ব্রান্ডগুলোকে রীতিমত নাকানিচুবানি খাওয়ানো শাওমির জন্য হুমকির বার্তা নিয়ে দুয়ারে হাজির রিয়েলমি। শাওমি যেসব ফোন বাজারে ছাড়ে, ঠিক একই দামে রিয়েলমি এর কোনো না কোনো ফোন বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করে। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, এই দুই চীনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোন প্রতিষ্ঠানটি এই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারে।

কোনো স্মার্টফোন ব্রান্ডই এত অল্প সময়ের মধ্যে এত দ্রুত স্মার্টফোন বাজার দখলে সক্ষম হয়নি। তবে রিয়েলমি’র চলার গতি দেখে বুঝা যায়, চলার পথে থামার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের। খুব শীঘ্রই ৫জি যুক্ত ফোন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্যের দেখা মিলবে রিয়েলমি এর তরফ থেকে।

[★★] আপনিও একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ! এখানে ক্লিক করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন।

ফেসবুকে যুক্ত হোন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য পেতে ইমেইলে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.