ফকীর লালন সাঁইজির হাজারখানেক গান একটি অ্যাপের মধ্যে

ফকীর লালন সাঁইজি  কুষ্টিয়া জেলার ছেউড়িয়া আখড়াবাড়িতে ভজন সাধন করাকালে আশপাশের অঞ্চল রাজশাহী, পাবনা, নদীয়া, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, মুর্শীদাবাদ ইত্যাদি অঞ্চলে তার বিপুল সংখ্যক ভক্ত জুটে গিয়েছিলো। তিনি ঘোড়ায় চড়ে ভক্তদের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যেতেন। তার মুর্শীদের নাম সিরাজ সাঁই। সাঁই শব্দের অর্থ দরবেশ।লালন গীতিসমগ্র অ্যাপটিতে প্রায় ১ হাজারের মতো গান আছে। এসব গানের অধিকাংশের মধ্যেই লালন ফকীর তার গুরুর নামটি যুক্ত করে দিয়েছেন।লালন গীতি সমগ্রফকীর লালন যৌবন কালে বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেকালে বসন্ত রোগের চিকিৎসা না থাকায় লোকেরা তাকে মৃত ভেবে কলাপাতার ভেলায় নদীতে ভাসিয়ে দেয়। কিন্তু গঙ্গা মা লালনকে গ্রাস করেননি। তিনি তাকে নিরাপদে সেখানে পৌছে দিলেন, যেখানে বিকশিত হবে লালু। হয়ে উঠবে সাঁই। লালন তার গানে বলেছেন “বাল্যকাল খেলাতে  গেলো, যৌবনে কলঙ্ক হলো, বৃদ্ধকাল শমনে এলো, মহাকাল এসে  করলো অধিকারী” লালনের জীবনে সুখ ছিলোনা তবে স্বস্তি ছিলো। আত্মতত্ব জেনে তিনি স্বস্তি অর্জন করেছিলেন। এজন্যই তিনি গানের মধ্যে বলেছেন, “সুখ  ছেড়ে সোয়াস্তি ভালো” এ কথাটা অবশ্য তিনিই প্রথম বলেননি, এর আগে আল্লাও বলেছিলেন, ইন্নামা আল উসরি উসরা, অর্থঃ নিশ্চয়ই কষ্টের মধ্যে স্বস্তি রয়েছে। লালন সাঁই তার জীবনে বহু তীর্থ ভ্রমণ করেছেন এবং বহূ মহতের সঙ্গ লাভ করেছেন। এজন্যই তিনি বারবার আফসোস করে বলেছেন, আর কি হবে মানব জনম, বসবো সাধু পেলে ?লালনগীতি সমগ্র প্রথম জীবনে সন্ন্যাস পালন করে পরে তিনি কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে গিয়ে আখড়া স্থাপন করে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন। এখানে থাকাকালীনই তিনি তার অধিকাংশ গান লেখেন, যা পরবর্তীতে লালন গীতিসমগ্র নামে বই আকারে ছাপা হয়। কিন্তু আরো পরে মানুষের সুবিধার্থে লালন গীতিসমগ্র নামে অ্যাণ্ড্রয়েড অ্যাপ আকারে বের হয়। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্লেস্টোর থেকে এই অ্যাপটি নামিয়ে নিতে পারেন। লালন গীতিসমগ্র এতে মাত্র ১ সেকেণ্ডে যেকোনো গানের নামের প্রথম অক্ষর লিখে গানটি খুজে পাওয়া যায়। আর সবচে মজার ব্যাপার  হলো, এই অ্যাপটি ব্যাবহার করতে কোনো ইন্টারনেট সংযোগ লাগেনা। তাই অতি দ্রুত এবং বিনা খরচে সাঁইজির যেকোনো গান খুজে পাওয়া যায়। অ্যাপ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য অথবা অন্যান্য পরামর্শের জন্য আমার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। আমার ওয়েবসাইট Nasir Uddin Vuiya আপনার গান শেখা শুভ হোক। মহৎ বলেছেন, গানে জ্ঞান, আর জ্ঞানেই গান। তাই গান শেখা মানে কেবলই সুরে গাইবার জন্য শেখা নয়। প্রতিটি গানের ভেদ এবং নিগূঢ়তত্ব একজন সদগুরু বা কামেল মুর্শিদের  কাছ থেকে জেনে নিতে হলে আপনাকে কোথাও না কোথাও বাইয়াত হতে হবে। মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি বলেছেন, যার পীর নাই, তার পীর হলো শয়তান। কাজেই মুর্শীদে, গোসাঁই, পাগল, ফকীর, দরবেশ, সন্ন্যাসী, সাধু, গুরু, বৈষ্ণব, আচার্য, কিংবা শিক্ষক, যে নামেই ডাকুন না কেন, তার কাছে যান। তার হাতে হাত রেখে দাসত্ব বরণ করুন। তবেই তিনি আপনাকে সত্য সুপথ চিনিয়ে দিবেন। লালন সাঁইজির কথা দিয়ে শেষ করছি, সত্য বল সুপথে চল, ওরে আমার মন। সত্য সুপথ না চিনিলে পাবিনে মানুষের দরশন। তাই সাঁইজির কালাম নিজেও পড়ুন বুঝুন, অপরকে বুঝান। প্রতিটি মানুষ যদি নিজেকে জানে, নিজেকে চেনে, আত্বতত্বের জ্ঞান দ্বারা আলোকিত হয়ে দেহতত্ব সাধন করে সোনার মানুষে  রুপান্তরিত হয়, তাহলেই এই পৃথিবী হবে সোনার পৃথিবী। সাধু গুরুর জয় হোক, আলেক সাঁই ! এখান থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করুনঃ লালন গীতিসমগ্র

[★★] আপনিও একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ! এখানে ক্লিক করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন।

ফেসবুকে যুক্ত হোন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য পেতে ইমেইলে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আমাদের প্রশ্ন করুন!