টরেন্ট কী এবং কীভাবে ব্যবহার করবেন

সিনেমা বা সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে গিয়ে টরেন্ট শব্দটির সাথে হয়ত ইতোমধ্যেই আপনার পরিচয় হয়ে গিয়েছে। মূলত টরেন্ট হল ফাইল শেয়ারিং এর একটি মেথড। তবে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য টরেন্ট ব্যবহার অনেকটাই কঠিন একটি বিষয় হতে পারে।

সহজভাবে বলতে গেলে, ইন্টারনেট হতে বিভিন্ন ম্যাটেরিয়াল ডাউনলোড করতে ব্যবহৃত একটি টুল হল টরেন্ট। মূলত ফাইল সাইজ বড় হলেই অধিকাংশ মানুষ টরেন্ট ব্যবহার করে থাকে। টরেন্ট হতে গান, চলচ্চিত্র, গেমস, সফটওয়্যার – সবই বিনামূল্যে ডাউনলোড করা সম্ভব। 

উল্লেখ্য যে কিছু কিছু আইএসপি অর্থাৎ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার টরেন্ট সাইটগুলো ব্লক করে রাখে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশেই টরেন্ট সাইট ব্যবহার নিষিদ্ধ। তাই কপিরাইটজনিত সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে টরেন্ট ব্যবহার করার সময় অবশ্যই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ভিপিএন ব্যবহার করুন। 

টরেন্ট ব্যবহার এর সুবিধা

টরেন্ট ব্যবহারের অন্যতম প্রধান সুবিধা হল এটি বিভিন্ন সোর্স থেকে একটি ফাইল ডাউনলোড করে। যার ফলে একটি সোর্স অকার্যকর হয়ে পড়লেও অন্য সোর্স ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড সম্পন্ন হয়ে যায়।

আরেকটি মজার ব্যাপার হল টরেন্ট এ ডাউনলোড কোনো কারণে থেমে গেলে তা পুনরায় প্রথম থেকে শুরু হয়না। কোনো কারণে ফাইল ডাউনলোড শেষের আগেই কম্পিউটার অফ করে দিলে পরে যখনই কম্পিউটার চালু করবেন, পূর্বে ডাউনলোডকৃত ফাইলটি আগের অবস্থা থেকে ডাউনলোড হবে।

সাধারণ ডাউনলোড সাইটগুলা থেকে টরেন্ট এ ডাউনলোড এর ক্ষেত্রে বেশি ডাউনলোড স্পিড পাওয়া যায়। এছাড়াও টরেন্ট থেকে ডাউনলোড ফাইল খুজে বের করাও নিতান্তই সহজ।

টরেন্ট এর অসুবিধা

টরেন্ট থেকে কোনো ফাইল ডাউনলোড করতে গেলে প্রয়োজন হয় সিড এর। কোনো ফাইলের জন্য যদি সিড না থাকলে আপনি যত চেষ্টাই করুন না কেনো, ওই ফাইল কোনোমতেই ডাউনলোড করতে পারবেন না।

টরেন্ট ব্যবহারের অন্যতম প্রধান অসুবিধা হল আপনি কি ডাউনলোড করছেন সেটা সম্পর্কে আপনি আগে থেকেই নিশ্চিত হতে পারবেন না। অর্থাৎ আপনি যে আপনার কাঙ্খিত ফাইল ই ডাউনলোড করছেন, এ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছুই জানতে পারবেন না। 

টরেন্ট এর সুবিধাতে আমরা এর বেশি ডাউনলোড স্পিড এর কথা বললেও মাঝেমধ্যে এটি অত্যন্ত লো ডাউনলোড স্পিড প্রদান করে। তবে আপনার যদি হাই স্পিড ইন্টারনেট কানেকশন থাকে, তবে আপনি ভিপিএন কানেক্ট করে নিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।

টরেন্ট থেকে ডাউনলোড করার নিয়ম

টরেন্ট ব্যবহারের সুবিধা-অসুবিধা উভয়ই বিদ্যমান। তহে ইন্টারনেট থেকে বিনামূল্যে বিভিন্ন ফাইল ডাউনলোড করতে টরেন্ট এর জুড়ি নেই। বাংলাটেক২৪ টরেন্ট ডাউনলোড কিংবা ফাইল পাইরেসি  সমর্থন করে না। এই টিউটরিয়ালটি শুধুমাত্র শেখার উদ্দেশ্যে তৈরী।   চলুন জেনে নেয়া যাক, কীভাবে টরেন্ট ডাউনলোড করতে হয়।

ধাপ ১ঃ টরেন্ট ক্লায়েন্ট ইন্সটল

আপনি যে ডিভাইস থেকেই টরেন্ট ডাউনলোড করতে যান না কেনো, টরেন্ট ডাউনলোড করতে গেলে টরেন্ট ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার লাগবেই। ইন্টারনেটে অনেক ধরনের টরেন্ট ক্লায়েন্ট ই রয়েছে৷ যেমনঃ uTorrent, BitTorrent ইত্যাদি। তবে যেকোনো টরেন্ট ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই ডাউনলোড করুন। এক্ষেত্রে ভূয়া কিংবা মডিফাইড ভার্সন এর ক্ষতি থেকে বাচা যায়।

ধাপ ২ঃ নির্ভরযোগ্য টরেন্ট সাইট খোজা

টরেন্ট ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার ইন্সটল করার পর এবার কাজ হল টরেন্ট ফাইল ডাউনলোডের জন্য নির্ভরযোগ্য ওয়েবাসাইট খোজা। টরেন্ট সাইটগুলো কোনো ফাইল হোস্ট করেনা। এগুলো টরেন্ট ফাইল এর ইনডেক্স হিসেবে কাজ করে মাত্র। এখানে ফাইলগুলো অন্য মানুষের কম্পিউটারে সংরক্ষিত থাকে। দুই ধরনের টরেন্ট ট্র‍্যাকার সাইট রয়েছে –

  • পাবলিক ট্র‍্যাকারসঃ এই ধরনের টরেন্ট সাইটগুলো আপনি গুগল সার্চ করেই খুজে বের করতে পারবেন। এই টরেন্ট সাইটগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত।
  • প্রাইভেট ট্র‍্যাকারসঃ এই ধরনের সাইটগুলো স্পেশাল একাউন্ট কিংবা ইনভাইটেশন ছাড়া ব্যবহার করা যায়না। তবে এই সাইটগুলোতে ডাউনলোড স্পিড পাবলিক ট্র‍্যাকারস সাইটগুলো থেকে অপেক্ষাকৃত ভালো।

ইন্টারনেটে অসংখ্য টরেন্ট সাইট রয়েছে। যেকোনো সাইট ব্যবহার এর পূর্বে যাচাই করে নিন, সাইটটি সম্পূর্ণ নিরাপদ কিনা।  

ধাপ ৩ঃ ফাইল খোজা

সব টরেন্ট ফাইল একই প্রক্রিয়ায় তৈরী হয়না, যার ফলে ডাউনলোড এর সময় তারতম্য চোখে পড়ে। এইজন্য আপনার জানতে হবে সিডার (Seeder) এবং লিচার (Leecher) সম্পর্কে।

সিডার হল সেসব ব্যাক্তি যারা টরেন্ট এর ১০০% ডাটা ডাউনলোড করেছেন। অর্থাৎ তাদের ডিভাইস থেকে মূলত অন্যরা টরেন্ট ফাইল সিড করতে পারে। অন্যদিকে লিচার হল তারা, যারা টরেন্ট ডাউনলোড করছে। ডাউনলোড কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর একজন লিচার সিডার এ পরিণত হয়ে যান।

একটি ব্যাপার লক্ষ করা জরুরী যে, টরেন্ট এ একই ফাইল একই সময়ে অনেকেই ব্যবহার করে। এই কারণে অনেকসময় ডাউনলোড স্পিড কম দেখা যায়৷ তাই লিচার অধিক সিডারযুক্ত টরেন্ট ফাইল ডাউনলোড করাই ভালো। এতে অধিক ডাউনলোড স্পিড পাওয়া যায়।

ধাপ ৪ঃ ফাইল ডাউনলোড

টরেন্ট সাইট থেকে টরেন্ট ফাইল ডাউনলোড করার পর টরেন্ট ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার এ প্রবেশ করুন। যে ফাইল থেকে টরেন্ট ডাউনলোড করবেন, সেটি ওপেন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাউনলোড শুরু হয়ে যাবে। ক্লায়েন্ট সফটওয়্যারটি অনেকগুলো সিডার এর সাথে যুক্ত হয়ে ফাইল ডাউনলোড করে। ডাউনলোড এর শুরুতে স্পিড কম থাকলেও, ঘাবড়ে যাবার কোনো কারণ নেই। কিছু সময়ের মধ্যেই ডাউনলোড স্পিড বেড়ে যাবে।

 

আশা করি, উল্লিখিত টিউটোরিয়াল থেকে আপনারা টরেন্ট ডাউনলোড এর সার্বিক ধারণা পেয়ে গিয়েছেন। টরেন্ট সম্পর্কে আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের জানান, কমেন্ট সেকশনে।  

[★★] আপনিও একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ! এখানে ক্লিক করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন।

ফেসবুকে যুক্ত হোন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য পেতে ইমেইলে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.