ব্র্যান্ড  পিসি ও ক্লোন পিসি এর মাঝে পার্থক্য কি?

সবাই কেমন আছেন, আশা করছি এই মহামারিতে সবাই সুস্থ রয়েছেন। আজকে আমি হাজির হলাম আপনাদের সামনে ব্র্যান্ড  পিসি ও ক্লোন পিসি এর মাঝে পার্থক্য নিয়ে। চলুন তাহলে আলোচনাতে যাওয়া যাক।

কেউ কেউ একটি ব্র্যান্ড নেম এবং একটি অসাধারণ সার্ভিস ওয়ারেন্টি পেলে খুশি হন করেন আবার কেউ কেউ তাদের নিজেরাই পিসি কনফিগারেশন ও রক্ষনাবেক্ষন  করতে চান বলে সাধারণত কাস্টমাইজড পিসিই পছন্দ করেন। এটা পুরোপুরিই পারসনাল চয়েসের ব্যপার। ব্র্যান্ড পিসির দাম বেশি কিন্তু সার্ভিস অনেক ভাল আর কাস্টম বা ক্লোন পিসির মূল্য কম আর নিজের কনফিগারেশন অনুযায়ী তৈরি করে নেয়া যায়। 

আশা করি নিচে যে আলোচনা করব তা  আপনার জন্য কোন ধরনের সিস্টেম কিনবেন তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করবে। অবশ্যই, একমাত্র আপনিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন। আপনাকেই ঠিক করতে হবে আপনি ব্র্যান্ডের ডেস্কটপ পিসি কিনবেন নাকি কাস্টম ডেস্কটপ পিসি কিনবেন। ব্র্যান্ড পিসি হল জনপ্রিয় কোন ব্র্যান্ডের ডেস্কটপ যেগুলোর একটি মডেল নাম্বার থাকে এবং কনফিগারেশন পরিবর্তন করা যায়না। আর কাস্টম পিসি আপনার চাহিদা অনুযায়ী কনফিগারেশন ঠিক করে নিয়ে কিনতে পারবেন। 

বিশ্বব্যাপী ডেল, এইচপি, আইবিএম, অ্যাপল, লেনোভো, এসার, কমপ্যাক, ইন্টেলসহ নামী প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড পিসি পাওয়া যায়। বিভিন্ন কনফিগারেশনের এসব পিসি মানের দিক থেকে যেমন নির্ভরযোগ্য তেমনি  দীর্ঘমেয়াদী সার্ভিস ওয়ারেন্টি থাকার কারনেও অধিক  নির্ভরযোগ্য।

অনেকেই ব্র্যান্ড নেম সিস্টেম পছন্দ করেন। এগুলিতে একটি “ক্লোন” সিস্টেমের চেয়ে বেশি খরচ হয়ে থাকে এবং আফটার সেল সার্ভিসও  অনেক বেশি ব্যয়বহুল কিন্তু আপনি যদি কম্পিউটারের ব্যাপারে নতুন হন তবে এটি আপনার জন্য একটি ভাল চয়েস হতে পারে! 

ক্লোন পিসিকে ক্রেতা বা ব্যবহারকারী তার ইচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কনফিগার করে নিতে পারেন। কম্পিউটার দোকানে গিয়ে ব্যবহারকারী কোন প্রজন্মের প্রসেসর নেবেন, হার্ডডিস্ক কত  জিবি/টিবি হবে, মাদারবোর্ড কোন ব্র্যান্ডের হবে, র‌্যাম কত জিবি হবে, গ্রাফিক্স কার্ড ও ডিভিডি রাইটার থাকবে কি থাকবে না ইত্যাদি যন্ত্রাংশ প্রয়োজন মতো বেছে নিতে পারেন। ক্লোন পিসির সুবিধা হচ্ছে গ্রাহক তার বাজেট এবং চাহিদা মতো কম্পিউটারটি সেটআপ করে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন।

ব্র্যান্ড  পিসি ও ক্লোন পিসি এর মাঝে পার্থক্য কি?
Clone PC

ব্র্যান্ড  পিসির কম্পনেন্ট  বা যন্ত্রাংশগুলো  ব্যয়বহুল হয়ে থাকে এবং সার্ভিস চারজও বেশ ব্যয়বহুল হতে পারে। সাধারণত ব্র্যান্ড পিসি একটি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রয় হয়। ফলে গ্রাহক তার পছন্দের কনফিগারেশন বিশিষ্ট কম্পিউটার নির্দিষ্ট মূল্যে যেকোন প্রতিষ্ঠান থেকে কিনতে পারেন। এক্ষেত্রে ঠকে যাওয়ার সুযোগ খুবই কম। অন্য দিকে ক্লোন পিসি’র প্রতিটি হার্ডওয়্যার আলাদাভাবে কিনতে হয়, এবং প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন ভিন্ন মূল্য অফার করে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহক কার্যত বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।

ব্র্যান্ড সিস্টেম সাধারণত নির্ভরযোগ্য এবং এদের ডকুমেনন্টেশন ভাল । প্যাচ এবং নতুন ড্রাইভার সাধারণত ইন্টারনেটে  অনেক বছর ধরে পাওয়া যায়, এমনকি অনেক পুরনো মডেলের জন্যও পাওয়া যায়।

Brand PC
Brand PC

ইলেক্ট্রনিক পণ্য হিসেবে কম্পিউটারে ত্রুটি দেখা দেয়া খুবই স্বাভাবিক। কম্পিউটার নির্মাতা কোম্পানিগুলো তাদের গ্রাহককে ২৪ ঘন্টা অনলাইন এবং টেলি সার্ভিস দিয়ে থাকে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের এই টেকনিক্যাল সাপোর্ট কেবল ব্র্যান্ড পিসি’র ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণভাবে পাওয়া সম্ভব। ক্লোন পিসি’র ক্ষেত্রে এই সুবিধা নেই।

ক্লোন  পিসিগুলি স্ট্যান্ডার্ড পার্টস ব্যবহার করে যা সহজেই মেরামত বা আপগ্রেড করা যায়। গুণ, মান, সাপোরট এবং ডকুমেন্টেশনে  দোকান থেকে দোকানে বিস্তর ফারাক পেতে পারেন । ক্লোনগুলি সাশ্রয়ী কিন্তু নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারীর জন্য একটু ট্রিকি।

যদি  কাস্টমাইজড  পিসিগুলি আদর্শ ATX মাদারবোর্ড ব্যবহার করে তবে এর কম্পনেন্ট গুলি সহজে এবং সস্তায় মেরামত বা রিপ্লেস করা যায় । সারভিস কন্ট্রাক্টে পরিষেবা পাওয়া যেতে পারে কিন্তু আপনি কেনার আগে চুক্তিটি সাবধানে পড়ে নিবেন।

ক্লোন  পিসি সহজেই আপগ্রেড করতে পারবেন। বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সহজেই পেয়ে যাবেন। আপনি একটি  বিস্তৃত পরিসরে সিস্টেম কনফিগারেশনের  অপশন পাবেন। যদি কোনও সারভিস ইস্যু না থাকে তবে ক্লোন পিসি নেয়াই ভাল হবে।

পিসি কেনার ক্ষেত্রে বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মূলত বেশিরভাগ ক্রেতাই বাজেট নির্ধারণ করে পিসির কনফিগারেশন ঠিক করেন। ক্লোন পিসি তৈরির ক্ষেত্রে যেহেতু হার্ডওয়্যারের ভিন্নতা থাকে, তাই বাজার যাচাই করে কম দামের যন্ত্রাংশ খুঁজে সহজেই পিসি তৈরি করা যায়। এজন্য বাংলাদেশে ব্র্যান্ড পিসির চেয়ে ক্লোন পিসি তুলনামূলক বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।

যেহেতু ক্রেতা পছন্দমতো হার্ডওয়্যার দিয়ে তার পিসি সাজাতে পারেন, তাই গ্রাহক তার পছন্দ, চাহিদা ও বাজেট অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে ক্লোন পিসির কনফিগারেশন আপগ্রেড করিয়ে নিতে পারেন। বাজেট কম কিন্তু ডেস্কটপ কম্পিউটার দরকার এমন হলে বাজারে গিয়ে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পছন্দ করে সংযোজন করে বা কাস্টমাইজড পিসি বানিয়ে নিতে পারেন আপনিও। আমার কিন্তু ক্লোন পিসি পছন্দ আচ্ছা আপনার পছন্দের পিসি কোনটি আর আপনি কি পিসি চালাচ্ছেন, কমেন্ট করে জানাবেন।  ধন্যবাদ সবাইকে।

[★★] আপনিও একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ! এখানে ক্লিক করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন।

ফেসবুকে যুক্ত হোন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য পেতে ইমেইলে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আমাদের প্রশ্ন করুন!