MIUI গ্লোবাল রম নাকি চায়না রম? কোনটি ব্যবহার করবেন?

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বর্তমানে তরুণদের মাঝে শাওমি স্মার্টফোনগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়। শাওমি হচ্ছে একটি চীনা কোম্পানি এবং তারা বিশ্বের অনেক দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও ভারতে অফিশিয়ালি পণ্য বিক্রি করছে।

তবে এখনো বিপুল পরিমাণ শাওমি ফোন গ্রাহকরা সরাসরি চীন থেকে খুচরা এবং পাইকারিভাবে এনে থাকেন। শাওমি ফোনগুলো এন্ড্রয়েড এরই একটি মডিফাইড সংস্করণ ব্যবহার করে যাকে তারা নাম দিয়েছে মিইউআই বা এমআইইউআই।

যারা শাওমি ফোন ব্যবহার করেছেন তারা নিশ্চয়ই খেয়াল করেছেন যে শাওমি ফোনগুলো গ্লোবাল বা চায়না নামক দুটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায়। আসলে এটা কোন হার্ডওয়্যার ভ্যারিয়েন্ট না। বরং সফটওয়্যার ভ্যারিয়েন্ট। আমাদের হাতে আসা সব শাওমি ফোনই মূলত চীনে কিংবা ভারতে তৈরী হয়। তবে চীনে তৈরী ফোনগুলোতে দুই ধরনের মিইউআই রম ইন্সটল করা থাকে। একটি হলো গ্লোবাল রম যা আন্তর্জাতিক বাজারের কথা চিন্তা করে ডেভেলপ করা হয়েছে এবং অন্যটি হলো চায়না রম যা চীনের মানুষের চাহিদার কথা চিন্তা করে ডেভেলপ করা হয়েছে।

একদিকে এন্ড্রয়েড গুগলের তৈরী এবং গুগল এর বিভিন্ন সার্ভিস দিয়ে ভর্তি, অন্যদিকে চীনে গুগলের সার্ভিস নিষিদ্ধ এবং বেশিরভাগ চীনা এমনকি ডেভেলপাররাও ভালো ইংরেজি জানে না। এই কারণেই মূলত শাওমি গ্লোবাল ও চায়না নামক দুই ধরনের ভ্যারিয়েন্ট তৈরী করেছে।

অনেকের মনে মিইউআই এর এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে কনফিউশন থাকে। অনেকে মনে করেন চায়না রম এর চেয়ে গ্লোবাল রম ভালো। আসলে দুটো ভ্যারিয়েন্টই শাওমির তৈরী এবং দুটোই ভালো। এমনকি দুটো রমে খুব অল্প কিছু পার্থক্য রয়েছে।

আমাদের দেশে গ্লোবাল রমের ফোনগুলো আনঅফিশিয়ালি চায়না রম এর ফোনের চেয়ে একটু বেশি দামে বিক্রি করা হয়। আসলে গুগল সার্ভিস বা অল্প কিছু পার্থক্য বাদ দিলে গ্লোবাল বা চায়নার মাঝে কোন তফাৎ নেই। এমনকি আপনি চাইলে পরবর্তিতে গ্লোবাল থেকে চায়না কিংবা চায়না থেকে গ্লোবাল রমে যেতে পারবেন।

একই সাথে চায়না রমেও চাইলে গুগল এর সার্ভিস যুক্ত করতে পারবেন। পুরোটাই নির্ভর করে ব্যবহারকারীর চাহিদা এবং রুচির উপর। তাই দুটোর মাঝে তুলনা করার খুব বেশি প্রয়োজন নেই। তবে এটা নিয়ে সবাইকে স্বচ্ছ ধারনা দেয়ার জন্য এখানে আমি গ্লোবাল এবং চায়না রম এর কিছু সুবিধা ও অসুবিধা তুলে ধরেছি।

গ্লোবাল রমঃ

সুবিধাঃ

  • গুগল সার্ভিসঃ এটাই গ্লোবালের সাথে চায়না রমের সবচেয়ে বড় পার্থক্য। চীনে গুগল সার্ভিস নিষিদ্ধ বলে চায়না রমে গুগল সার্ভিস পাবেন না। তবে গ্লোবাল রমে ঠিকই সব ধরনের গুগল সার্ভিস ইন্সটল করা পাবেন।
  • অনিরাপদ চাইনিজ ব্লোটওয়্যার নেইঃ গ্লোবাল রমে ডিফল্ট অ্যাপগুলোর বাইরে সাধারণত প্রয়োজনীয় কিছু গুগল অ্যাপ, যেমনঃ প্লে স্টোর, ম্যাপস, ইউটিউব ইত্যাদি ইন্সটল করা থাকে।
  • অনেক ভাষা প্রিলোডেডঃ গ্লোবাল রমের ইউআই তে ইংরেজি ভাষা সিলেক্ট করা থাকে। তবে ইংরেজি ছাড়াও এখানে আপনি বাংলা, হিন্দি, স্প্যানিশ সহ অসংখ্য ভাষা প্রিলোডেড পাবেন।

অসুবিধাঃ

  • ধীর আপডেটঃ শাওমির কোর ডেভেলপাররা চীনা এবং তারা প্রথমে চায়না রম ই তৈরী করে। পরবর্তীতে অবস্থা বুঝে গ্লোবাল লঞ্চ এর সময় গ্লোবাল রম ডেভেলপ করে। এই কারণে যে কোন আপডেট আগে চায়না রমে আসে এবং তার অনেক পরে গ্লোবাল রমে আসে।
  •  ফিচার কমঃ চায়না রমে ছোটখাট অনেক ফিচার থাকে যা গ্লোবাল রমে থাকে না। যেমনঃ চায়না রমে থার্ড পার্টি থিম ও ফন্ট সাইডলোড করা যায় যা গ্লোবাল রমে সম্ভব না।

চায়না রমঃ

সুবিধাঃ

  • দ্রুত আপডেটঃ আগেই বলা হয়েছে যে চায়না রমে গ্লোবাল থেকে বেশি এবং দ্রুত আপডেট আসে। তাই নতুন ফিচারগুলো ও গ্লোবাল ব্যবহারকারীদের আগে চায়না রম ব্যবহারকারীরা পেয়ে থাকেন।
  • বেশি ফিচারঃ চায়না রমে গুগল সার্ভিস না থাকলেও ছোটখাট কিছু বাড়তি ফিচার থাকে যা গ্লোবাল রমে থাকে না।
  • স্ট্যাবিলিটিঃ এটা কোন অফিশিয়াল তথ্য না হলেও অধিকাংশ ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন যে তারা চায়না রমে গ্লোবাল এর চেয়ে বেশি স্ট্যাবিলিটি এবং র‍্যাম ম্যানেজমেন্ট ভালো পেয়েছেন।

অসুবিধাঃ

  • চাইনিজ ভাষাঃ চায়না রম এর ইউআই তে এখানে সেখানে অনেক চাইনিজ ভাষার দেখা মিলবে। এমনকি আপনি ল্যাঙ্গুয়েজ ইংরেজি দিয়ে রাখলেও কিছু কিছু ডিফল্ট অ্যাপে দুর্বোধ্য চাইনিজ ভাষা দেখবেন।
  • চাইনিজ ব্লোটওয়্যারঃ এটা চায়না রমের সবচেয়ে বিরক্তিকর দিক। চায়না রমে কিছু স্পন্সরড অ্যাপ ইন্সটল করা থাকে যেগুলো আপনি খুব সহজে আনইন্সটল করতে পারবেন না। এগুলো চীনের বাইরে কোন কাজেরও না। পাশাপাশি এসব চাইনিজ অ্যাপ এর ডেটা লিক করার মতো বদনামও আছে।
  • গুগল সার্ভিস নেইঃ গুগল মূলত একটি ইকোসিস্টেম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুগল সার্ভিস ব্যবহারকারীদের প্রত্যেক প্লাটফর্মে সিমলেস এক্সপেরিয়েন্স দিতে সাহায্য করে। তাই চায়না রমে গুগল সার্ভিস না থাকা অনেকের জন্য সমস্যার কারণ। তবে আপনি প্লে স্টোর এর বিকল্প হিসেবে শাওমির অ্যাপ স্টোর এবং শাওমির ক্লাউড সার্ভিস পাবেন। তবে আপনি নেহাত গুগল সার্ভিস ছাড়া চলতে না পারলে ম্যানুয়ালি প্লে স্টোর সহ সব গুগল সার্ভিসই ইন্সটল করতে পারবেন।

আসলে সুবিধা অসুবিধার কথা বিবেচনা করে গ্লোবাল ও চায়না রমে আহামরি কোন পার্থক্য নেই। তাই ফোন কেনার সময় গ্লোবাল নাকি চায়না রম সেটা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে ভালো স্পেসিফিকেশনের ফোন কেনা যুক্তিযুক্ত হবে। কারণ আপনি পরে চাইলে রম চেঞ্জ করতে পারবেন কিন্তু ফোন চেঞ্জ করা অনেকের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারে।

আপনি যদি নিতান্তই ফোনের ব্যাপারে অজ্ঞ না হোন তাহলে বেশি টাকা দিয়ে গ্লোবাল রম এর ফোন না কিনে চাইনিজ রমের ফোনই নিতে পারেন। (যদি আনঅফিসিয়াল হিসেবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় না থাকে)

আরো পড়ুনঃ শাওমি ফোনে চায়না রম থেকে যেভাবে গ্লোবাল রমে যাবেন

তো আপনি ব্যক্তিগতভাবে কোনটি পছন্দ করেন? কমেন্টে জানাতে পারেন।

[★★] আপনিও একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ! এখানে ক্লিক করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন।

ফেসবুকে যুক্ত হোন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য পেতে ইমেইলে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

3 thoughts on “MIUI গ্লোবাল রম নাকি চায়না রম? কোনটি ব্যবহার করবেন?”

  1. রিয়েলমির চায়না রমে গুগলের সার্ভিস ব্যবহার করতে কি কোন সমস্যা হবে?? জিপিএস প্লাস বাংলাদেশের ন্যটিভ অ্যাপ্স যেমন বিকাশ, পাঠাও ব্যবহারে কোন সমস্যা হবে কি ?

    Reply
  2. আমার ফোনের মডেল mi cc9 চায়না রম। এটাতে কিভাবে গুগল প্লে ইন্সটল করবো। জানালে খুব উপকৃত হবো। ধন্যবাদ

    Reply

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আমাদের প্রশ্ন করুন!