ইন্টেল নিয়ে এলো তাদের নবম প্রজন্মের প্রসেসর লাইনআপ

ইন্টেল প্রতি বছরই তাদের ডেস্কটপ ও ল্যাপটপের প্রসেসরগুলো আপগ্রেড করে। তারা সাধারণত এই আপগ্রেডকে জেনারেশন বা প্রজন্ম নামে অভিহিত করে থাকে। বর্তমান বাজারে প্রচলিত তাদের সর্বশেষ প্রসেসর লাইনআপ অষ্টম প্রজন্মের। তবে গত বছরের শেষদিকে নবম প্রজন্মের একমাত্র ডেস্কটপ প্রসেসর কোর i9-9900K ঘোষণার পর ইন্টেল অনেকটা নীরব হয়ে পড়ে। এমনকি নবম প্রজন্মের বাকি প্রসেসরগুলো কবে আসবে সে ব্যাপারেও কিছু জানায় নি।

অবশেষে বেশ ঘটা করেই ইন্টেল আমাদের সাথে তাদের নবম প্রজন্মের সম্পূর্ন প্রসেসর লাইনআপকে পরিচয় করিয়ে দিলো। তারা তাদের পুরো প্রসেসর ফ্যামিলিকে আগের মতোই দুটি ভাগে ভাগ করে রেখেছে। একটি হলো তাদের ডেস্কটপ শ্রেণির প্রসেসর এবং অন্যটি হলো মোবাইল শ্রেণির প্রসেসর। মোবাইল প্রসেসরগুলো মূলত নোটবুক, আল্ট্রাবুক কিংবা হাইব্রিড ট্যাবলেট পিসিতে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে ডেস্কটপ প্রসেসরগুলো গতানুগতিক ডেস্কটপ, সার্ভার র‍্যাক কিংবা গেমিং ল্যাপটপে ব্যবহার হতে দেখা যায়।

ডেস্কটপ শ্রেণিঃ

তাদের নবম প্রজন্মের ডেস্কটপ প্রসেসরগুলোর কোডনেম হলো “কফি লেক রিফ্রেশ”। মূলত অষ্টম প্রজন্মের কফি লেক প্রসেসরগুলোর আপগ্রেডই হলো এই নবম প্রজন্ম। তবে লেটেস্ট এই প্রসেসরগুলোর থার্মাল ইন্টারফেসে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাছাড়া নবম প্রজন্মের হাই এন্ড প্রসেসরগুলোতে আটটি পর্যন্ত ফিজিক্যাল কোর আছে। সেই সাথে প্রসেসরগুলো ইউএসবি ৩.১ জেনারেশন ২ ও আরো উন্নত সিএনভিআই সমর্থিত ওয়াইফাই সাপোর্ট করে।

ইন্টেলের লেটেস্ট ১৪ ন্যানোমিটার আর্কিটেকচারে তৈরী এই প্রসেসরগুলোকে তারা অনেকটা আগের মতোই কিছু ভাগে বিভক্ত করেছে।

প্রথমত তারা কোর আই এর সিরিজ নম্বর ও ইন্টেলের কিছু ক্লাসিক নামে নিচের মতো করে ভাগ করেছে প্রসেসরগুলোকে।

  • কোর i9 : ৮ কোর, হাইপারথ্রেডিং সাপোর্টেড
  • কোর i7: ৮ কোর
  • কোর i5: ৬ কোর
  • কোর i3: কোর
  • পেন্টিয়াম গোল্ড: ২ কোর, হাইপারথ্রেডিং সাপোর্টেড
  • সেলেরন: ২ কোর

প্রত্যেকটি ভাগের আবার ফিচার অনুযায়ী কয়েকটি ভ্যারিয়েন্ট আছে। এদেরকে ইংরেজি হরফের সাফিক্স দ্বারা আলাদা করা হয়েছে নিচের মতো করে।

  • K – ওভারক্লক করা যাবে
  • KF – ওভারক্লক করা যাবে কিন্তু ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স নেই
  • No Suffix – স্ট্যান্ডার্ড সিপিইউ, ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স আছে
  • F – ইন্টিগ্রেটেড গ্রাফিক্স নেই
  • T – লো পাওয়ার সিপিইউ

মোবাইল শ্রেণিঃ

তাদের মোবাইল শ্রেণির প্রসেসরগুলো মূলত গেমিং ল্যাপটপ কিংবা পোর্টেবল ওয়ার্কস্টেশনে ব্যবহার উপযোগী করে বানানো হয়েছে। এগুলো হাই পারফর্মেন্স মোবাইল প্রসেসর যেগুলো ৪৫ ওয়াট পর্যন্ত পাওয়ার খরচ করে। তাদের এই হাই পারফর্মেন্স গেমিং ল্যাপটপগুলো কোর i9, i7 এবং i5 এই তিনটি ভাগে পাওয়া যাবে। সেই সাথে এদের এক্সট্রা ফিচার অনুজায়ী দুটো সাফিক্স এ দেখা যাবে। যেখানে নামের সাথে HK থাকার অর্থ হলো সেগুলো ওভারক্লক করা যায় এবং সেই সাথে নামের সাথে H থাকার অর্থ হলো সেগুলো ওভারক্লক সাপোর্ট করে না।

প্রসেসরগুলো ইন্টেলের অপ্টেন মেমোরি সাপোর্ট করবে এবং এদের গতি সর্বোচ্চ ৫ গিগাহার্জ পর্যন্ত পাওয়া যাবে ওভারক্লকিং এর মাধ্যমে।

ইন্টেলের ওয়েবসাইটে প্রসেসরগুলোর বিস্তারিত পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যে কিছু কোম্পানি তাদের ল্যাপটপগুলোতে নবম প্রজন্মের প্রসেসর যুক্ত করা শুরু করে দিয়েছে। কিছুদিনের মাঝেই হয়তো বাজারে এদের দেখা মিলবে।

[★★] আপনিও একটি টেকবাজ একাউন্ট খুলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে পোস্ট করুন! হয়ে উঠুন একজন দুর্দান্ত টেকবাজ! এখানে ক্লিক করে নতুন একাউন্ট তৈরি করুন।

ফেসবুকে যুক্ত হোন!

সর্বশেষ প্রযুক্তি বিষয়ক তথ্য পেতে ইমেইলে ফ্রি সাবস্ক্রাইব করুন!

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

আমাদের প্রশ্ন করুন!